Eibela News আজ মঙ্গলবার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ... |
সর্বশেষ
প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি | `তারেক রহমান বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব নিলাম' | ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান | বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক, আমরা কর্মসংস্থান গড়ব: জামায়াত আমির | জামায়াত কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী | র‍্যাবের নতুন নাম হচ্ছে ‘এসআইএফ’; শিগগিরই আদেশ জারি | পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে | শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার হিসাব দিল টিআইবি, ৪৫৩টি হত্যা মামলা | জুলাই গ্রাফিতির নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে আজ | রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড, আমার মায়ের মর্যাদা আগে: শফিকুর রহমান

ধর্ম

একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরুর জীবনাবসান

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪৫

বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু একুশে পদকপ্রাপ্ত সংঘরাজ ভদন্ত জ্ঞানশ্রী মহাথেরো শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে তার জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার বড়ুয়া বলেন, ‘সংঘরাজ ভদন্ত জ্ঞানশ্রী মহাথেরো কিংবদন্তি ধর্মগুরু, সমাজসংস্কারক ও বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। ভিক্ষুত্ব-জীবনে তিনি জ্ঞান, শীল ও প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে গেছেন দেশ-বিদেশের বৌদ্ধসমাজে। বার্ধক্যের কারণে আজ তার জীবনাবসান হলো। শেষকৃত্যের সময়সূচি শুক্রবার জানানো হবে।’

জ্ঞানশ্রী মহাথেরো ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর রাউজান উপজেলার উত্তর গুজরা (ডোমখালী) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রেম লাল বড়ুয়া ও মা মেনেকা রানী বড়ুয়া। কিশোর বয়সেই ধর্মে দীক্ষা নেন। ১৯৪৯ সালে ভদন্ত গুণালঙ্কার মহাস্থবিরের উপাধ্যায়ত্বে উপসম্পদা লাভের মাধ্যমে বৌদ্ধ সংঘ জীবনে প্রবেশ করেন।

এরপর থেকে জ্ঞানশ্রী মহাথেরো একনিষ্ঠভাবে ধর্ম প্রচার, সমাজকল্যাণ ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে মুবাইছড়ি জ্ঞানোদয় পালি টোল, মনোঘর অনাথ আশ্রম (রাঙামাটি), কদলপুর অনাথ আশ্রম ও ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার (রাউজান), গুইমারা ড. জ্ঞানশ্রী বৌদ্ধবিহার, সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রসহ বহু প্রতিষ্ঠান।

দেশ-বিদেশে সংঘরাজ ভদন্ত জ্ঞানশ্রী মহাথেরো পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা ও উপাধি। ১৯৮১ সালে থাইল্যান্ড সরকার তাকে ‘শাসন শোভন জ্ঞান ভানক’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৬ সালে মিয়ানমার সরকার তাকে ‘মহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ’ উপাধি প্রদান করে। ২০০৭ সালে থাইল্যান্ডের মহাচুল্লালংকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পান সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। ২০২২ সালে সমাজসেবায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ‘একুশে পদক’ প্রদান করে। জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর জীবনাবসানে দেশের বৌদ্ধসমাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘জ্ঞানশ্রী মহাথেরো নন্দনকাননে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাত ৮টায় রাউজানের বিনাজুরী শ্মশান বিহারে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার সকালে সেখানে সংঘদান হবে। ১৮ নভেম্বর দেহ পেটিকাবদ্ধ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

 

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন