Eibela News আজ মঙ্গলবার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ... |
সর্বশেষ
বিএনপিকে নিয়ে নব্য সংস্কারবাদীদের অপপ্রচার বিস্ময়কর: মাহদী আমিন | বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক, আমরা কর্মসংস্থান গড়ব: জামায়াত আমির | জামায়াত কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী | র‍্যাবের নতুন নাম হচ্ছে ‘এসআইএফ’; শিগগিরই আদেশ জারি | পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে | শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার হিসাব দিল টিআইবি, ৪৫৩টি হত্যা মামলা | জুলাই গ্রাফিতির নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে আজ | রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড, আমার মায়ের মর্যাদা আগে: শফিকুর রহমান | ভবিষ্যতে ব্যাংকের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে: অর্থ উপদেষ্টা | দ্য উইককে মির্জা ফখরুল: শেখ হাসিনাকে ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত

সাহিত্য

একুশে বইমেলা পেছাতে চান প্রকাশকেরা

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:০৬

ফাইল ছবি

অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার যে সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিয়েছে, তা আরো পিছিয়ে রোজার ঈদের পর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।

সমিতির সভাপতির কাছে গত ১৯ জানুয়ারি ২৬২ জন প্রকাশক এক চিঠিতে বইমেলার সময় পুনর্নির্ধারণের আবেদন করে।

এর সূত্র ধরে শনিবার প্রকাশকদের প্রস্তাব বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মাধ্যমে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে পাঠিয়েছে সমিতি।

তবে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বলছে, প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই তারা গত ১৭ ডিসেম্বরের সভায় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে অনুযায়ী বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকাশনা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিতে আবেদন করেছে। অন্তত ২৫ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা বলছেন মেলার আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব এবং বাংলা একাডেমির সচিব সেলিম রেজা বলেন, “মেলার যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই নির্ধারিত তারিখেই মেলা শুরু করার ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি চলমান আছে।”

প্রকাশকরা বলছেন, নির্বাচনের পর পর বইমেলা হলে ‘আর্থিক ক্ষতির’ মুখে পড়বেন তারা। ‘বিদ্যমান বাস্তবতায়’ বইমেলার তারিখটি পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন বলেন, “আমরা তো অবশ্যই চাই যে মেলাটা একুশের চেতনাকে ধারণ করে একটা উত্তম আয়োজন হোক। কিন্তু এখন বাস্তবতা হল বেশিরভাগ ছাপাখানা নির্বাচনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বই ছাপানোর জন্য শিডিউলই পাওয়া যাচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে। প্রকাশকেরা যে যত্ন নিয়ে বই প্রকাশ করবেন, তার অবকাশ নেই।

“ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে। পাঠকরা রমজানের সময় এবং ঈদের আগে বই ক্রয়ে কতটা আগ্রহী হবেন তা অনিশ্চিত। তাছাড়া এবার প্রায় দুই যুগ পর দেশে একটা নির্বাচন হচ্ছে; এই বছর আর সব বছরের মত না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকার নিশ্চয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।”

প্রকাশনা সংস্থা আদর্শর প্রধান নির্বাহী ও স্বত্বাধিকারী মাহাবুব রাহমান বলেন, “প্রকাশকরা যেহেতু মনে করছে নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করাটা বাস্তবসম্মত নয়, তাহলে বাংলা একাডেমির উচিত তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

“মেলা ঈদের পর করাটাই বাস্তবসম্মত হবে। কেউ কেউ বলছেন যে ওই সময়টায় ঝড়-বৃষ্টি হয়, তা তো ফেব্রুয়ারিতেও হয়। ঝড়-বৃষ্টি বিবেচনায় নিয়ে মেলায় প্রস্তুতি নিলেই সমস্যা হবে না।”

রোজা শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। সেটা মাথায় রেখে প্রথমে বইমেলা এগিয়ে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা একাডেমি।

পরে ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘স্থগিত’ করার কথা জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি। তখন বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।

পরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ২ নভেম্বর বৈঠকে করে বাংলা একাডেমি নির্বাচনের পরপর ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পরই মেলার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এরপর বাংলা একাডিমি বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানায়।

 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন