Eibela News আজ মঙ্গলবার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ... |
সর্বশেষ
প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি | `তারেক রহমান বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব নিলাম' | ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান | বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক, আমরা কর্মসংস্থান গড়ব: জামায়াত আমির | জামায়াত কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী | র‍্যাবের নতুন নাম হচ্ছে ‘এসআইএফ’; শিগগিরই আদেশ জারি | পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে | শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার হিসাব দিল টিআইবি, ৪৫৩টি হত্যা মামলা | জুলাই গ্রাফিতির নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে আজ | রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড, আমার মায়ের মর্যাদা আগে: শফিকুর রহমান

আইন

ভবঘুরে ছদ্মবেশে ৬ খুন, সাভারের সেই সিরিয়াল কিলারের দোষ স্বীকার

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:১১

ঢাকার সাভারের আলোচিত সেই সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান ওরফে সম্রাট দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সাভার জিআরও শাখার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বাহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আসামিকে আদালতে হাজির করে সাভার থানা পুলিশ। এরপর আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।” 

সংশ্লিষ্ট সিজিএম কোর্ট ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির জানান, আসামি সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা ৫০ পর্যন্ত দীর্ঘ  জবানবন্দিতে মোট ছয়টি খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এর আগে গতকাল রোববার বিকালে থানার সামনে থেকে সম্রাটকে আটক করে সাভার থানা পুলিশ। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দু’জনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সাভারে একের পর এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে সাভার মডেল থানা ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিরিয়াল কিলার সম্রাট জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গতকাল কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, এক ব্যক্তির চলাফেরা, সময় ও অবস্থান মিলিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জোড়া হত্যায় জড়িতসহ মোট ছয়টি হত্যায় জড়িতের বিষয় স্বীকার করেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত পাঁচ মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি লাশ উদ্ধার করা হয় সাভার মডেল মসজিদের সামনে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতার মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে।

একই ভবনে পাঁচ লাশ

২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের ভেতরে সাদা রঙের পাঞ্জাবি ও কালো রঙের ট্রাউজার পরা এক অজ্ঞাত (৩০) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। লাশের মুখমণ্ডল, নাক, কান, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরায় আঘাত বা ক্ষতের দাগ নির্ণয় করা যায়নি। ওই ঘটনায় সেদিনই সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।

এরপর একই বছরের ১১ অক্টোবর ওই একই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের বাথরুমের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর (৩০) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, গলায় কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় ১৩ অক্টোবর সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।

এর দুই মাস পর ১৯ ডিসেম্বর একই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের বাথরুমের ভেতরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই লাশ আগুনে পোড়া এবং গলিত হওয়ায় লাশের মুখমণ্ডল, নাক, কান, গলাসহ অন্য অঙ্গ শনাক্ত করা এবং শরীরের ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন পোড়া এবং গলিত মাথার খুলি এবং পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে পোড়া ও গলিত অংশ বিশেষ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুনে পোড়া এবং গলিত মাংসসহ হাড়ের উপস্থিতি দেখা যায়। ওই ঘটনায় সেদিনই সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।

সবশেষ গত ১৮ জানুয়ারি কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের বাথরুমের ভেতরে এক ব্যক্তি (২৫) ও এক নারীর (১৩) আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। পোড়া হওয়ায় লাশের মুখমণ্ডল, নাক, কান, গলাসহ অন্য অঙ্গ শনাক্ত করা এবং শরীরের ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাদের হত্যা করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদ সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর (৭৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা হত্যাকারী

পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। সাভার মডেল থানার পাশাপাশি ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ যৌথভাবে তদন্তে যুক্ত হয়। একটি বিশেষ টিম নিয়মিতভাবে পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় নজরদারি জোরদার করে। পৌরসভার সহায়তায় এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয় এবং একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জোড়া লাশ উদ্ধারের আগের দিনও ওই এলাকায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তখন কোনও সন্দেহজনক কিছু নজরে আসেনি। এর মধ্যেই পর দিন লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম জানান, জোড়া পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনকভাবে ওই ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, সময় ও অবস্থান মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে তাকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি একই জায়গায় পাওয়া দুই লাশের হত্যাকাণ্ড ও আগের পৃথক ঘটনায় চারটিসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

আরাফাতুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা এবং অন্য কোথাও সে এ ধরনের অপরাধ করেছে কিনা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত যে ঠিকানা দিয়েছে, ব্যাংক কলোনি, সেখানে পুলিশ অভিযান চালালেও এখনও তার সঠিক ঠিকানা শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার ও আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃত একটি দেশলাই উদ্ধার করা হয়েছে, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্তকে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের আশা করা হচ্ছে।

 

আইন থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন