ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডের হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রথাগত ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রবীণ পুরুষদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় মসজিদ কর্তৃপক্ষের শুরু করা ‘পিলাটিস’ ক্লাসের ভিডিওটি টিকটক এবং ফেসবুকে ২০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চমৎকারভাবে যুক্ত করার এই অনন্য উদাহরণটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিবিসির জানানো হয়েছে যে, প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করতে ও পেশির নমনীয়তা বাড়াতে শুরু করা এই উদ্যোগটি এখন ইংল্যান্ডের আরও অনেক মসজিদের জন্য অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসির কাছে এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণদের ঘরের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে এসে একটি প্রাণবন্ত সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘মসজিদ কেবল নামাজের স্থান নয়, এটি যেন একটি প্রকৃত কমিউনিটি হাবে রূপান্তর হয় সেটিই ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।’

প্রতি বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই ক্লাসে ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণরা অংশ নেন। ট্রেইনার জারা কায়ানির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্যায়ামগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের পিঠের ব্যথা উপশম ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়। ক্লাসের পর ফল এবং চা-বিস্কুটের আড্ডায় প্রবীণরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান, যা তাদের মানসিক অবসাদ দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই ক্লাসের অংশগ্রহণকারীদের জীবনে আসা পরিবর্তনের গল্পগুলোও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। ৬২ বছর বয়সী আবিদ খান, যার ২০২৪ সালে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছিল, তিনি জানান যে এই পিলাটিস ক্লাস তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ করার পাশাপাশি মানসিক পুনর্জীবন দান করেছে। একইভাবে দীর্ঘদিনের সায়াটিকা ব্যথায় ভোগা ৬০ বছর বয়সী হাবিব রেহমান এখানে নিয়মিত ব্যায়াম করে এখন অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
বর্তমানে জনপ্রিয়তা এতই বেড়েছে যে ২৫ জনের বেশি সদস্য হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে নতুন ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মোহাম্মদ ইলিয়াস জানিয়েছেন, মসজিদের পাশেই একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে যা শেষ হলে আরও বড় পরিসরে প্রবীণদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও বিশেষ শরীরচর্চা সেশন চালু করা সম্ভব হবে।
সূত্র: বিবিসি
ব্যতিক্রম থেকে আরো পড়ুন