প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০৮ (মঙ্গলবার)
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

সারা বিশ্বেই নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস মহামারি আকার ধারণ করেছে। ডায়াবেটিস কেবল একজন ব্যক্তির নয়, এটি কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ জানেন না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। কারণ, তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ৫৯ কোটি ডায়াবেটিস রোগী আছেন। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে ৮৫ কোটি ডায়াবেটিস রোগী পাওয়া যাবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৩৮ লাখেরও বেশি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। যাদের প্রায় অর্ধেকই মহিলা। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির তথ্য মতে, ২০১৫-২০১৬ সালে তাদের রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখের কিছু বেশি। সেখানে বর্তমানে তাদের নিবন্ধনকৃত রোগী ৬৫ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত ১০ বছরে রোগী বাড়ছে ৫ গুণের বেশি।

এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য-‘কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সচেতনতা গড়ে তুলুন।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি জানায়, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ দিবসের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫৯ কোটি। ডায়াবেটিস যেহেতু বহুলাংশেই (৭০ শতাংশ পর্যন্ত) প্রতিরোধযোগ্য, ফলে এখনই যদি এ রোগের প্রতিরোধ না করা হয়, তাহলে এই সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৮৫ কোটিতে পৌঁছানোর আশংকা রয়েছে বলে আইডিএফ ডায়াবেটিস এটলাস তথ্য বলছে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৩৮ লাখেরও বেশি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের প্রায় অর্ধেকই মহিলা। তা ছাড়া, এ কথাও উল্লেখ করতে হয় যে, ডায়াবেটিস আছে, এমন অর্ধেকেরও বেশি লোক জানেনই না যে, তাদের ডায়াবেটিস আছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১০০ জনের মধ্যে ২৬ জন মহিলাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়, যাদের ৬৫ শতাংশই পরবর্তীকালে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের ও গর্ভস্থ শিশুদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়া, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে তাদের পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।

এ অবস্থায় পরিকল্পিত গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানান বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক  একে আজাদ খান। তিনি বলেন,  যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদেরকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সচেতন করা এবং যাতে এখনো ডায়াবেটিস হয়নি তাদেরকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সচেতন করে তোলাই এ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস কেবল একজন ব্যক্তির নয়, এটি কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলে। কর্মস্থল এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটান। কর্মস্থলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা, কম শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ বেশি হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি তার কর্মক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সচেতনতা গড়ে তুললে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়, কর্মীদের কাজের মান উন্নত হয় এবং কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, যাদের ডায়াবেটিস নেই, ডায়াবেটিস বিষয়ক সচেতনতা কর্মস্থলে থাকা অন্য কর্মীদেরকেও ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। তাই কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা আবশ্যক বলে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপে থাকলে, অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে, শারীরিক পরিশ্রম না করলে, নিয়মিত শরীরচর্চা না করলে, স্বাভাবিকের চাইতে মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিওর, অন্ধত্ব ও অঙ্গচ্ছেদের মতো মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম করা, মানসিক চাপমুক্ত থাকা, সুষম খাদ্য খাওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ ও ইনসুলিন গ্রহণ করা, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা প্রয়োজন।

বাডাস জানায়, বর্তমানে দেশের ১ কোটি ৩৮ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মধ্যে ৬৫ লাখের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগীকে সমিতির ডায়াবেটিস-সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বিআইএইচএস ও অধিভুক্ত সমিতির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৬৫ লাখ রেজিস্ট্রার্ড ডায়াবেটিক রোগীকে স্বল্পমূল্যে মৌলিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।