প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৪৫ (মঙ্গলবার)
যেভাবে ভালো লেখক হতে পারেন

লেখককে প্রথমত সাধক হতে হয়। কেননা সাধনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব নয়। লেখালেখি অনেকের কাছে আত্মার খোরাক হিসেবে গণ্য। আর নিজের ভেতরের নিগুঢ় কথা, বাক্য ও শব্দকে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চাইলে প্রয়োজন সঠিক রসবোধ ও যথাযথ শব্দের ব্যবহার। 

লেখালেখি করলে যে বাংলা একাডেমি, ম্যানবুকার কিংবা পুলিৎজার পুরস্কার পেতে হবে, এমন ভাবা ভাঁড়ামি ও বোকামি দুই-ই। তবে হ্যাঁ, ভালো লিখলে সেই কালজয়ী লেখার জন্য আপনি অবশ্যই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। 

লেখালেখি তো অনেকেই করে। তবে শুধু কি লিখলেই হবে?লেখায় থাকতে হবে প্রাণ। লেখালেখির মতো সাধনার পথে পা বাড়ালেই হবে না। ভালো লেখক হতে হলে আপনাকে কিছু দিক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। 

দ্য ইকনোমিস্ট সাময়িকীর ভাষা গুরু হিসেবে পরিচিত সাবেক আর্টস সম্পাদক ও কলামিস্ট লেন গ্রিন একটি প্রতিবেদনে ভালো লেখক হওয়ার সাতটি টিপসের কথা বলেছেন। 

জানুন ভালো লেখক হতে হলে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে তা সম্পর্কে: 

১. উচ্চাকাঙ্ক্ষা

ভালো লেখক হতে হলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। গদ্যটি আপনি যেভাবে সাজাতে চান, যেভাবে শুরু ও শেষ করতে চান, সেটি লেখার সময় ভুলে যান। লেখার শুরুতে পাঠককে আগ্রহী করে তোলে এমন বাক্য ব্যবহার করুন। এমনভাবে ঘটনার বর্ণনা করুন যেন পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে। "অনেক বছর পর, যখন তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে পড়তে হলো...." এভাবে নিজের বিখ্যাত রচনা 'ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড' বা 'নিঃসঙ্গতার একশ বছর' শুরু করেছিলেন লেখক গ্র্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ।

ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে কে রয়েছে এবং কেনই বা রয়েছে? এর চেয়ে শক্তিশালী কোন জিজ্ঞাসা দিয়ে কোনো রচনা শুরু করা সম্ভব নয়।

২. সংক্ষিপ্ত বাক্য 

একটি লেখা পাঠকের কাছে সহজ করে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই গদ্য লেখায় সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার করুন। সংক্ষিপ্ত বাক্য লিখলে পাঠকের মেধাকে ছোট করা বোঝায় না। 

ছোট বাক্য লেখা কোনো স্টাইল নয়, কিন্তু মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র: কারণ এভাবেই পাঠকের মস্তিষ্ক কাজ করে।

দীর্ঘ একটি বাক্য, বিশেষ করে যেসব বাক্যে একাধিক অধীনস্থ বাক্যাংশ থাকে, সে ধরণের বাক্য বুঝতে হলে পাঠককে ব্যাকরণের পাশাপাশি মূল বিষয়টিকে মাথায় একসাথে রাখতে হয়। আর এটি পাঠকের কাছে অনেক কঠিন মনে হয়। 

তাই বাক্য বড় করার চেয়ে, লেখার মূল আধেয় বা বিষয় বস্তুর উপরই গুরুত্ব দেয়া উচিত। 

৩. ছন্দ ও রসবোধ 

ভাল লেখার আলাদা ছন্দ ও গতিময়তা থাকে। আপনি হয়তো শুনে থাকবেন: "সব কিছুরই পরিমিতি বোধ থাকা উচিত, এমনকি পরিমিতিরও পরিমিতি বোধ থাকা জরুরি।" 

বাক্য ছোট করার পাশাপাশি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাক্য লিখতে হবে। একই বাক্য পড়তে পড়তে পাঠকের বিরক্ত লাগতে পারে। লেখাটি রসহীন হয়ে ওঠবে। তাই লেখায় গতিময়তা ও রসবোধ থাকতে হবে।

৪. উপযুক্ত শব্দের ব্যবহার 

লেখাকে জীবন্ত করে তোলা যায় সঠিক শব্দের ব্যবহারে। সঠিক শব্দ দেখা, গন্ধ নেয়া, স্বাদ নেয়া কিংবা পায়ের আঙুল দিয়ে স্পর্শ করার মতো অনুভূতি দেয়। তাই লেখায় যথাযথ শব্দের ব্যবহার করতে হবে। কেবল শব্দ পরেই পাঠক মনের চোখ দিয়ে এক ধরণের ছবি আঁকে। কল্পনায় অন্য এক মূর্তি আঁকে।

৫. বিমূর্ত শব্দ বর্জন 

লেখার সময় শব্দ চয়নের দিকে খেয়াল রাখুন। বিমূর্ত শব্দ বর্জন করুন। এটি আপনার লেখাকে ক্লাসিক করে তুলতে পারে।

....বিশেষ করে এগুলোকে মাঝে মাঝে বলা হয়ে থাকে "মনোনীত করণ" বা আরো ভাল ভাবে বললে- "জম্বি নাউন বা ভৌতিক বিশেষ্য" বলা যায়।

এগুলো অনেক বেশি প্রাণহীন শব্দ যেমন "ঘটনা", "ফেনোমেনা", "স্তর" বা "পর্যবেক্ষণ"।

প্রাতিষ্ঠানিক, আমলাতান্ত্রিক এবং অন্যান্য প্রাচীন লেখার ধরণে এমন শব্দের প্রাচুর্য থাকে।

এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায় এবং নির্দিষ্টভাবে বিষয় বস্তুকে তুলে ধরে এমন শব্দ বাছাই করা উচিত। 

৬. নিজের লেখা জোরে জোরে পড়া 

নিজের লেখা নিজেই জোরে জোরে পড়ুন। সম্ভব হলে কাউকে পড়ে শোনান। শুধু লেখা, সম্পাদনার মধ্যে দিয়েই লেখকের দায়িত্ব শেষ হয় না। লেখাটি যখন পড়বেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, লেখার সময় কোন ধরণের শব্দটি ভুলে গেছেন বা মিস করেছেন। লেখাটি জোরে পড়লে কোথায় ছন্দপতন হয়েছে সেটিও আপনি সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন। 

৭. দৃঢ় ভাবে শেষ করা 

যেকোনো গদ্যের শেষটা আকর্ষণীয় হওয়া চাই। তাই লেখার শেষে সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ বা বাক্য গুচ্ছ ব্যবহার করুন। সাহিত্যিক আইরিন নেমিরভস্কি নিজের রচনা স্যুট ফ্রেঞ্চাইজিতে একই কথা বলেছেন।