প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২৩:১২ (বুধবার)
টিআইবির দিব্যদৃষ্টি নেই, তারা সব কিছু চোখে দেখে না: অর্থ উপদেষ্টা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “টিআইবির লোকজন সব কিছু চোখে দেখতে পারে না। তাদের তো দিব্যদৃষ্টি নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমি টিআইবির বদনাম করছি না, তবে আমি বলি—যেগুলো ফান্ডামেন্টাল জিনিস, সেগুলো একটু দেখুন। আর না দেখার ইচ্ছা থাকলে তো অনেক কিছুই করা যায়। আমি কিন্তু কোনোদিন আলতু-ফালতু কথা বলে কাউকে ক্রিটিসাইজ করিনি, সবসময় বেসিক জিনিসের ওপর কথা বলেছি।” 

সালেহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক জায়গায় রেখে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “অর্থনীতি সন্তোষজনক বলতে আমরা বুঝি যে স্থিতিশীলতা (স্টেবল অবস্থা) বজায় আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই। সামনে যে সরকার দায়িত্ব নেবে, তাদের যেন তেমন কোনও অসুবিধা না হয়, সেই পথ আমরা তৈরি করে দিচ্ছি।” 

বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের সমালোচনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমি যেমন সর্বোচ্চ ঋণ করেছি, তেমনি সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ শোধও করেছি। আমরা ইতোমধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি।” 

সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা অত্যন্ত ভালো এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পে কমিশন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে-কমিশন একটা ভালো ইস্যু। আমরা পে-কমিশনের সুপারিশগুলো এক্সামিন করার জন্য একটা কমিটি করে দিয়ে যাব। এ জন্য বাজেটও যে ফেজওয়াইজ করবে, সেটার সংস্থান করে যাচ্ছি।

পরবর্তী সরকার যে এটা করবে, তার নিশ্চয়তা কি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, দিয়ে যাব টাকা-পয়সা, তারপর বলে যাব এটা রেকমেন্ডেশন। এটা রিপোর্ট অত্যন্ত ভালো রিপোর্ট হয়েছে। আশা করি এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

নির্বাচনে গণভোট হওয়াতে কত টাকা আপনার খরচ হলো? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা এক্সাক্টলি আমি জানি না। খুব বেশি না মোটামুটি আমাদের প্রিন্সিপালটা ছিল যে যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, নির্বিঘ্নে হয়। যেমন সিসি ক্যামেরা লাগবে, এই লাগবে এগুলোর ব্যাপারে আমরা কোনো কার্পণ্য করিনি এবং যে টাকা চেয়েছে আমরা দিয়ে দিয়েছি রিসেন্টলি। আবার এডিশনাল কিছু টাকা চেয়েছে সেটাও আমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।

হ্যাঁ ভোটের প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কতো টাকা দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা টাকা দেয় নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচন কমিশন খরচ করে আইনশৃঙ্খলা, রিটার্নিং অফিসার এগুলোর কাজে, মানে যথেষ্ট কঠিন হিসাব রক্ষা করতে হয়। হ্যাঁ ভোটের প্রচারের জন্য আমরা টাকা দেয়নি।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব জরুরি কিছু না হলে তিনি সাধারণত কোনো বৈঠকে যান না বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু তিনি নন, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবারই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়।

পরিবারের সদস্যরাও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তার স্ত্রীও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী খুব একটা ভ্রমণ করেন না, তবু নিয়ম অনুযায়ী সেটিও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের সবাইকে নতুন করে সাধারণ পাসপোর্ট করতে হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতা করে তিনি বলেন, এখন আপনাদের মতো সাধারণ পাসপোর্ট নিয়েই তাকে চলাফেরা করতে হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা নেওয়ার সুবিধার্থেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে—এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তার ভিসা নিয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তার ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়নি।

নির্বাচনের তিন দিন আগে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছে—মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কেন এ ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হচ্ছে, তা আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো চাপ তৈরি করবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ওই বিষয়গুলোতে তিনি যুক্ত নন, তাই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার তেমন কোনো অর্থ নেই।