সিলেট বিএনপির আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে অনেকদিন ধরে প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যও। সর্বশেষ মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়েও লড়াইয়ে নেমেছিলেন তারা। শেষপর্যন্ত মনোনয়ন যুদ্ধে ২০১৮ সালের মত বিএনপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে এ আসনে দলীয় প্রার্থী করলে আশাহত হন আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রথম থেকেই নগরকেন্দ্রীক রাজনীতি করলেও সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হককে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রথমে রাজী না হলেও পরবর্তীতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘অনুরোধে’ রাজী হন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র আরিফ।
মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট বিভেদ ভুলে সিলেট-১ আসনে মুক্তাদিরের পক্ষে প্রথমবারের মতো ধানের শীষের প্রচারে নেমেছেন সিলেট-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আরিফ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর আম্বরখানা থেকে শুরু হওয়া গণসংযোগ দরগাহ গেইট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সাবেক জন প্রতিনিধিদের এই গণসংযোগ সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
এসময় মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, নজরুল ইসলাম মুনিম, এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, রুকসানা বেগম শাহনাজ, সালেহা কবির শেপী, দিনার খান হাসু, আবদুর রকিব তুহিন, মুজিবুর রহমান মুজিব, হুমায়ুন কবির সুহিন, দেলোয়ার হোসেন নাদিম, নাজমুল হোসেন, কমিশনার ওলিউর রহমান চৌধুরী সুহেল, জামাল আহমদ, সেলিম আহমদ রনি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান প্রমুখ।
গণসংযোগকালে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপি যতোবার ক্ষমতায় এসেছে, সিলেটের উন্নয়ন হয়েছে। অন্য কোনো সরকার এখানে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেনি। কাজেই আমরা মনে করি, জনগণ এবারও বিএনপির পক্ষে রায় দেবেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির একজন সদস্য হিসেবে বিগত দিনে আমি নগরীতে মানুষের সেবা করেছি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জনগণ দুই দুইবার আমাকে নির্বাচিত করেছিল। এই নগরীর একজন সেবক ছিলাম আমি। সেই প্রেক্ষিতে নগরীর প্রত্যেক বাসিন্দার কাছে আমি সংসদ নির্বাচনে খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে ভোট চাইছি। শুধু এই সিলেট-১ আসন নয়, সিলেট জেলার ছয়টি আসনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জয়যুক্ত করাতে আমরা গণমানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
আরিফ আরও বলেন, ‘আমরা ধানের শীষের পক্ষে এক ও অভিন্ন। আমরা শেষদিন পর্যন্ত আমাদের একতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাব।’ বিএনপির সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ইসলামি মূল্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে অপপ্রচার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মুখে ইসলামের কথা বলে মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা যারা করে, তারা কেমন রাজনীতি করেন তা মানুষের জানা হয়ে গেছে।’
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট নগরীর মেয়র ছিলেন। তিনি কাউন্সিলরবৃন্দদের নিয়ে এই নগরীর চেহারা বদলাতে কাজ করেছেন। এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি সিলেট-৪ আসনে আমাদের বিএনপিদলীয় প্রার্থী। তাঁর চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ভালোবাসার টানে, দায়বদ্ধতার টানে সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ছুটে এসেছেন, সাবেক কাউন্সিলরবৃন্দরাও সাথে আছেন, যা এখানে বিএনপির প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।’
এদিকে, খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে আরিফুল হক চৌধুরীসহ সাবেক জনপ্রতিনিধিদের এই প্রচারণা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাদের প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও যোগ দেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.