মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা উল্লেখ করে কোটায় চাকরি নেওয়া নওগাঁর আত্রাইয়ের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার জামিনের সময় বাড়ানোর জন্য আদালতে হাজির হলে তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন আজ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
দুদক সূত্র জানায়, নিজের চাচাকে বাবা ও চাচিকে মা উল্লেখ করে চাচার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটায় চাকরি নেন কামাল হোসেন। এই অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। কামাল হোসেন, তার চাকরি নেওয়ার সময় উল্লেখ করা বাবা–মা এবং অনুসন্ধানে পাওয়া বাবা–মায়ের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কামাল হোসেন ডিএনএ পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। আজ তার জামিনের শেষদিন ছিল। এদিন তার ডিএনএ পরীক্ষারও কথা ছিল। জামিনের সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হলে আদালত জানতে চান- তার ডিএনএ পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা। তিনি আদালতকে জানান পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। এরপর আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদক জানায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে কামাল হোসেনকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে শিগগির ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে। একই সঙ্গে তার চাকরি সংক্রান্ত কাগজপত্রে উল্লেখ করা বাবা, মা ও অনুসন্ধানে পাওয়া বাবা, মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তার প্রকৃত বাবা ও মাকে দালিলিকভাবে চিহ্নিত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।
এই অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে। কামাল হোসেন ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরি নেওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা উল্লেক করেছেন।
কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালে প্রকৃত বাবার নাম উল্লেখ করেন। পরে একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে চাচা এবং চাচীর নাম বাবা-মা হিসেবে ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করেন। এসএসসি, এইচএসসি ও বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রি পরীক্ষায় চাচা-চাচির নামই বাবা-মা হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি। এছাড়া জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে একই জালিয়াতি করেছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.