প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৭:০২ (মঙ্গলবার)
‘চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যা’

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধারসহ অন্যতম শুটার মো. রহিমকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এ বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, কাওরান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে ৯টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরুর কথা জানান তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাওরান বাজার কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনও রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।

শফিকুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেলসহ দুই জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো– রানা মোল্লা (২৬) ও নূর মোহাম্মদ (৩২)।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।